ব্রেক্সিট গণভোটের প্রায় ১০ বছর পরও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশটি পিছিয়ে পড়েছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য-নিয়ম বারবার পাল্টানোর কারণে দেশটির অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে মন্থর রয়েছে। খবর ইউরো নিউজ।
কিংস কলেজ লন্ডনের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ডিসিশন মেকার প্যানেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিট না ঘটলে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি প্রায় ৮ শতাংশ হারে বড় হতে পারত। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিশ্লেষণে এ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ শতাংশে।
গবেষকরা জানান, ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় বাড়ায় গোটা যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত কার্যত থেমে গিয়েছিল। অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন যন্ত্রপাতি কেনা বা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়। তারা সম্ভাব্য নিয়ম পরিবর্তন ও বাণিজ্য বাধার ঝুঁকি সামলাতেই বেশি সময় ব্যয় করেছে। নতুন পণ্য উন্নয়ন বা উৎপাদন বাড়ানোর মতো কাজ তাই পিছিয়ে পড়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিট গণভোটের পরের বছরগুলোয় যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ কমেছে ১২-১৮ শতাংশ। কর্মসংস্থান কমেছে ৩-৪ শতাংশ। উৎপাদনশীলতাও একই হারে কমেছে।
গবেষকরা বলেন, ইউরোপের সরবরাহ চেইনের সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান গভীরভাবে যুক্ত, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানই সাধারণত যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে উৎপাদনশীল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান।
গবেষণা দল ব্রেক্সিটকে এক ধরনের ‘উল্টো বাণিজ্য সংস্কার’ বলে উল্লেখ করেছে। সাধারণত বাণিজ্য সংস্কারে বাধা কমে, কিন্তু যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে বরং তা বেড়েছে। গণভোটের পর পরই বাণিজ্য থেমে যায়নি। তবে মূল আঘাত আসে ব্রেক্সিট-পরবর্তী ট্রেড অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার পর।
ব্রেক্সিট গণভোটের পর গত ১০ বছরে উন্নত অর্থনীতির জন্য পরিচিত দেশগুলোর মধ্যে বেশ পিছিয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্য। এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে সমজাতীয় অর্থনীতিগুলোর তুলনায় ৬-১০ শতাংশ কমে। আর উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ১০ শতাংশ দেশের তালিকায় নেমে এসেছে যুক্তরাজ্যের নাম।
গবেষকরা বলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কিছুদিন পরই কমে যাবে, কিন্তু তা হয়নি। এ অনিশ্চয়তা দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর পরিবর্তন এনেছে। প্রায় ১০ বছর পার হলেও ব্রেক্সিটের প্রভাব এখনো স্পষ্টভাবে রয়ে গেছে।